আইন অঙ্গনের কিংবদন্তি ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের আইন ও বিচার অঙ্গনের অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ পরলোকগমন করেছেন। গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
পেশাদার জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় তিনি কেবল একজন প্রথিতযশা আইনজীবই ছিলেন না, বরং দেশের বিচার বিভাগের সংস্কার ও আইনি সংস্কারের অন্যতম রূপকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ আইনজীবী। গত শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব গণমাধ্যমকে জানান, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সুপ্রিম কোর্ট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
১৯৩৭ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা শফিক আহমেদ শিক্ষার আলো নিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে এলএলএম এবং লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদে দেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বেশ কিছু যুগান্তকারী আইনি সংস্কার সাধিত হয়। মন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ কেবল তাঁর আইনি প্রজ্ঞার জন্য নন, বরং তাঁর পরিশীলিত ব্যক্তিত্ব এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার জন্যও সমাদৃত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনি লড়াই চালিয়েছেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়েও বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ ও আইন অঙ্গনে অবদান রাখছেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের প্রয়াণে বাংলাদেশ একজন নির্ভীক ও প্রাজ্ঞ আইনজ্ঞকে হারাল। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় তাঁর অবদান ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে। রাজধানীর আদালত চত্বর থেকে শুরু করে আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি টেবিলে তাঁর কণ্ঠস্বর হয়তো আর প্রতিধ্বনিত হবে না, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আইনি দর্শন আগামী প্রজন্মের আইনজীবীদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
