অতিরিক্ত গতি ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণে মার্চ মাসে সড়কে প্রাণহানি বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। ছবি: সংগৃহীত
দেশের সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে আরও বেশি অনিরাপদ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি—উভয়ই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ভঙ্গুর দশাকেই পুনরায় উন্মোচিত করেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহতের সংখ্যা যেখানে ছিল ১৫.৪২ জন, মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.১৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সড়কে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১১.২৮ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া সড়ক ছাড়াও রেলপথ ও নৌপথের চিত্রও উদ্বেগজনক; ৪৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৬৭ জন এবং ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরাবরের মতোই মোটরসাইকেল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত মাসে ২০৪ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের একটি বড় অংশ। দুর্ঘটনার স্থান হিসেবে আঞ্চলিক সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে; মোট ২৬৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এসব সড়কে। এছাড়া ১৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ।
ভৌগোলিক দিক থেকে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খোদ রাজধানী ঢাকাতেই ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ২৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে। সংস্থাটি বলছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে গতি নজরদারি এবং চালকদের নিয়মিত প্রেরণামূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়া এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
সড়ক দুর্ঘটনার এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং শত শত পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের জীবন্ত দলিল। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা এবং জবাবদিহিমূলক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে সড়কের এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা দুষ্কর হবে।
বিষয় : সড়ক দুর্ঘটনা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
