দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এনে একটি টেকসই ও ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই 'যৌথ কর্মপরিকল্পনা' বা রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিডা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কৌশলগত পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
আশিক চৌধুরীর উপস্থাপিত এই কর্মপরিকল্পনা মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। ১৮০ দিনের এই স্বল্পমেয়াদী অথচ প্রভাববিস্তারী রোডম্যাপে মোট ২৫টি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ রয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হলো— অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, বিনিয়োগকারীদের সহায়তার পরিধি বাড়ানো এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা।
পরিকল্পনায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আধুনিকায়ন, বহুল প্রতীক্ষিত 'চাইনিজ ইকোনমিক জোন' দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিল্পপার্কগুলোতে প্লট সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে 'মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল' গঠনের প্রস্তাবনাও এই পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ।
বিনিয়োগ সেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য করতে তিনি বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর সমন্বয়: একাধিক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী ও একক সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা।
- বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্ম: ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা 'বাংলাবিজ' চালু করা।
- নতুন প্রণোদনা: সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে যুগোপযোগী ও আকর্ষণীয় নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ মানচিত্র বিশ্বদরবারে আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক সংকেত পেলে দ্রুতই এই ২৫টি উদ্যোগের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।