ঈদকে সামনে রেখে বাজারে শতকোটি টাকার জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছে একাধিক সিন্ডিকেট। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখনই সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোটের বিশাল এক সিন্ডিকেট। ইফতারি কেনা থেকে শুরু করে ঈদের বাজার—ভ্যাপসা গরম আর ভিড়ের সুযোগে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শতকোটি টাকার জাল নোট। শুধু রাজধানীর অন্ধকার গলিতে নয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবেও চলছে জাল টাকার প্রকাশ্য ‘ধামাকা অফার’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গৃহস্থালি পণ্যের আড়ালে এই বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশজুড়ে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুক ও টেলিগ্রামে নির্দিষ্ট গ্রুপ খুলে জাল নোটের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কারবারিরা। আগে যেখানে সরাসরি লেনদেন হতো, এখন সেখানে লেনদেনের মাধ্যম অনলাইন। ১ লাখ টাকার সাধারণ মানের জাল নোট বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়, আর ব্যাংকের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম দাবি করা ‘এ’ গ্রেডের ১ লাখ টাকা মিলছে মাত্র ২০ হাজার টাকায়। চক্রগুলো আসল নোটের বান্ডিলের মাঝে কৌশলে ৫ থেকে ১০ শতাংশ জাল নোট মিশিয়ে দেয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা দুঃসাধ্য।
তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই কারবারে উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী তরুণদের সম্পৃক্ততা। সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে নাইমুল ইসলাম ইশান ও কেফায়েত উল্লাহ নামে দুই শিক্ষার্থী ধরা পড়েছেন, যারা গ্রাফিক্স সফটওয়্যার ও লেজার প্রিন্টারের সাহায্যে নিখুঁত নিরাপত্তা সুতা ও জলছাপ তৈরি করছিল। কারবারিদের ভাষায় ‘এ’ গ্রেডের এই নোটগুলো ব্যাংক ছাড়া যেকোনো শপিং মল বা খুচরা বাজারে অনায়াসে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর ও ডেমরাসহ রাজধানীর উপকণ্ঠে অন্তত ৫০টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ছগির মাস্টার ও লিয়াকত হোসেন জাকিরের মতো পুরোনো কারিগররা।
ঈদ বাজারের এই ব্যস্ততায় সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়ছেন ফুটপাতের ইফতার বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বনশ্রীর এক ইফতার বিক্রেতা মামুনের আক্ষেপ, "ভিড়ের মধ্যে ৫০০ টাকার নোট পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে না। ইফতারি খেয়ে ভুয়া টাকা দিয়ে চলে যায়।" কাওরান বাজারের ডাব বিক্রেতা আব্দুল জলিল বলছিলেন তার আতঙ্কের কথা, "এখন ৫০০ টাকার নতুন চকচকে নোট দেখলে ভক্তি নয়, ভয় লাগে।"
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিনিয়ত অভিযান চালালেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি ফাঁকফোকর। ডিএমপি ও র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব চক্রের সদস্যরা বারবার গ্রেফতার হলেও অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধে জড়ায়। র্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, অনলাইন ও অফলাইনে কঠোর নজরদারি চলছে। ডিবির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, জাল নোটের উৎস নির্মূলে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে।
প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, লেনদেনের সময় নিরাপত্তা সুতা ও নোটের খসখসে ভাব পরীক্ষা করে নিতে হবে। উৎসবের ভিড়ে সামান্য অসতর্কতা আপনার আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
