রাজধানীর একটি মার্কেটে ঈদের পছন্দসই পোশাক খুঁজে নিতে ব্যস্ত ক্রেতারা। আলোকসজ্জা আর মানুষের ভিড়ে চারদিকে এখন উৎসবের আবহ। ছবি: সংগৃহীত
শহুরে ব্যস্ততাকে ছাপিয়ে এখন চারদিকে ঈদের আবহ। ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিপণিবিতানগুলোর ব্যস্ততা। রাজধানীর ঐতিহাসিক পুরান ঢাকার ইসলামপুর, কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট থেকে শুরু করে বাংলাবাজার ও লক্ষ্মীবাজার—সর্বত্রই এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকালের স্নিগ্ধতা থেকে শুরু করে গভীর রাতের নিস্তব্ধতা অবধি, প্রতিটি মুহূর্ত এখন বাণিজ্যিক উৎসবের রঙে রঙিন।
এবারের ঈদ বাজারে লক্ষ্য করা গেছে এক ভিন্নধর্মী প্রবণতা। দীর্ঘ সময় ধরে রাজত্ব করা প্রতিবেশী দেশের পণ্যের আধিপত্য এবার কিছুটা ম্লান। এর বিপরীতে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও চীনের আধুনিক ঘরানার পোশাক। বিশেষ করে পাকিস্তানি লন ও থ্রি-পিসের প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আভিজাত্যে এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশি পোশাক। স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর নিপুণ কারুকাজে তৈরি শাড়ি ও পাঞ্জাবির কদর বরাবরের মতোই আকাশচুম্বী।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইফতারের পর থেকেই মার্কেটগুলোতে যেন প্রাণ ফিরে আসে। আলোকসজ্জায় সজ্জিত বিপণিবিতানগুলোতে উৎসবের আমেজ চলে সেহরি পর্যন্ত। গ্রীষ্মের দাবদাহ বিবেচনায় রেখে এবার সুতি ও আরামদায়ক কাপড়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কারিগররা।
বিক্রি জমজমাট হলেও সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পণ্যের বাড়তি দাম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটা বেশি। মৌসুমী খাতুন নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, "গত দুই বছর কেনাকাটায় সংযম পালন করতে হয়েছে। এবার পরিবারের জন্য কিনছি ঠিকই, কিন্তু দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দিচ্ছে।" নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ বাজার কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই মূল্যে কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে ঈদ বাজারেও। ভিড় এড়াতে অনেক সচেতন ক্রেতা এখন ই-কমার্স ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। তবে যারা সশরীরে বাজারে আসছেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আনা হয়েছে কঠোরতা। পুরান ঢাকার সরু রাস্তাগুলোর যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ তৎপরতার পাশাপাশি প্রতিটি বড় মার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ ও ইসলামপুরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চাঁদরাত পর্যন্ত এই বাণিজ্যিক জোয়ার অব্যাহত থাকবে। গত কয়েক বছরের ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে এবার একটি সফল মৌসুমের প্রত্যাশা করছেন তারা।
বিষয় : ছুটির বাজার মতিঝিল ঈদের আমেজ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
