পবিত্র ঈদুল ফিতরের নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে চাওয়া মানুষের কাছে রেলের একটি টিকিট যেন অমূল্য রত্ন। অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিনে ১৭ মার্চের টিকিটের জন্য রেলওয়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আছড়ে পড়েছে যাত্রীচাহিদার এক বিশাল ঢেউ। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ও দুপুরে দুই দফায় টিকিট ছাড়ার পর রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপে যে পরিমাণ ‘হিট’ বা প্রবেশের চেষ্টা হয়েছে, তা গত কয়েক বছরের সব রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট উন্মুক্ত করার পর মাত্র ৩০ মিনিটে ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বার প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ একটি টিকিটের জন্য স্ক্রিনে আঙুল ঠুকেছেন। এই বিশাল চাপের মুখে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টিকিট নিঃশেষ হয়ে যায়।
একই চিত্র দেখা গেছে দুপুরের শিফটেও। দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর প্রথম ৩০ মিনিটে ১ কোটি ৫ লাখের বেশি ‘হিট’ রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বমোট ৫৮ হাজার ৪২৬টি আসনের টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ মার্চ ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে রেলওয়ের আসন সংখ্যা রয়েছে ৩১ হাজার ২৫৫টি। আর সারাদেশে ওই দিনের জন্য মোট আসন বরাদ্দ আছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৩টি। যেখানে প্রতি সেকেন্ডে লক্ষাধিক মানুষের প্রবেশের চেষ্টা চলছে, সেখানে সীমিত এই আসন সংখ্যা সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের অভিযোগ, কয়েক মিনিটের মধ্যেই সার্ভারে ‘সব টিকিট শেষ’ হওয়ার বার্তা ভেসে উঠছে।
রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগে সাত দিনের অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ৮ মার্চ পাওয়া যাবে ১৮ মার্চের টিকিট এবং ৯ মার্চ বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট। প্রতিটি টিকিট যুদ্ধেই এমন ডিজিটাল লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।