শিশুশিল্পী হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন প্রার্থনা ফারদিন দিঘী। তার সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ঢল নামত মানুষের। তবে সেই দর্শকপ্রিয়তা এখন আর পাচ্ছেন না দীঘি। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ সিনেমাটি তার প্রমাণ।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী মুক্তি পেয়েছে দীঘি অভিনীত সিনেমা ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। মুক্তির দিন থেকে দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে ছবিটি। কোনো শোয়ে ২ জন, কোনো শোয়ে ৩ জন করে দর্শক আসছেন। আবার কোনো শোয়ে কেউই আসছেন না।
এ অবস্থায় লাভের মুখ তো দূরের কথা রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হলের বিদ্যুৎ বিলও উঠছে না ছবিটির আয় থেকে। তাই দুই দিন যেতেই সিনেমাটি নামিয়ে নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন শ্যামলী সিনেমা হলের হাউজ ম্যানেজার আহসানউল্লাহ।
‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ কেমন চলছে— জানতে চাইলে আহসানউল্লাহ বলেন, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ আমাদের এখানে গতকাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু আজ রোববার থেকে আমরা শাকিব খানের ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমাটি চালাচ্ছি।’
কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছবির সেল-ই নাই। দর্শক কোনো শোয়ে দুইজন, কোনো শোয়ে তিনজন আবার কোনো শোয়ে একেবারে শুন্য। সারাদিনে দেখা গেছে ১৬/১৭ জন করে দর্শক হচ্ছিল। শুক্রবার নাইট শোয়ে তো একজন এসেছিল। একজন নিয়ে কি আর শো চালানো সম্ভব?’
বিদ্যুৎ বিল তোলার নিশ্চয়তাও দিতে পারেনি দীঘির ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’— এমনটা উল্লেখ করে আহসানউল্লাহ বলেন, ‘প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলেই নামিয়েছি। বলেছি এভাবে চললে হল বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ ছবিটি চালিয়ে স্টাফ খরচ না উঠুক, বিদ্যুৎ বিল তো উঠতে হবে। তাও যদি না ওঠে তাহলে কীভাবে হবে।’
ছবিটি দর্শক টানতে ব্যর্থ হওয়ার দুটি কারণ বের করেছেন এ হল ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সিনেমার অবস্থা দুটোই খারাপ। আপনি নিজে যদি একটি ছবি বানাতে যান তাহলে আগেই চিন্তা করবেন লগ্নিকৃত টাকা তুলে আনতে হবে। তখন কিন্তু সেভাবেই বানাবেন। মন দিয়ে গল্প বাছাই করবেন। যত্নের সঙ্গে ছবিটি বানাবেন। কিন্তু অনুদানের ছবিগুলো বানানো হয় দায়সারাভাবে। দু-চারটি ব্যতিক্রম ছাড়া আজ পর্যন্ত অনুদানের কোনো ছবি ভালো চলতে দেখলাম না।’
‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ নামিয়ে শ্যামলী হল কর্তৃপক্ষ ভরসা করছে শাকিবের পুরনো ছবি ‘নবাব এলএলবির ওপর। প্রত্যাশার কতখানি পূরণ করছে ছবিটি জানতে চাইলে আহসানউল্লাহ বলেন, ‘মোটামুটি বলতে পারেন। অত যে ভালো তা না। কেননা এটা তো পুরনো ছবি। অনেক আগে মুক্তি পেয়েছে। ভালোমন্দের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে হল সচল রাখা আরকি। তাছাড়া আজ মাত্র চালালাম। এখনই বলা যাচ্ছে না কেমন যাবে। ছবিটি যে চলছে তা মানুষের জানতেও তো সময় লাগবে।’