ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত খল অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়জগতে দাপট দেখানো এই প্রবীণ অভিনেতা ক্যানসার পুনর্নবীকরণ হওয়ার পর গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানসহ বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।
আজ সকালে প্রদীপ রাওয়াতের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অভিনেতা যশপাল শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রথম এই মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন। পরে প্রদীপ রাওয়াতের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ তিওয়ারি ভারতীয় গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
"আমাদের গজনির দেবা, লাগানের প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। শান্তিতে থাকুন, আমার প্রিয় সহকর্মী।"
— যশপাল শর্মা, ভারতীয় অভিনেতা (ইনস্টাগ্রাম পোস্টে)।
আশির দশকের শুরুতে অভিনয়জীবন শুরু করলেও বি আর চোপড়ার বিখ্যাত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ 'অশ্বত্থামা' চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন প্রদীপ রাওয়াত। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে আশুতোষ গোয়ারিকরের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘লাগান’-এ দেবা সিং চরিত্রে এবং ২০০৫ সালের তামিল ও ২০০৮ সালের হিন্দি ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘গজনি’-তে প্রধান খলনায়ক 'গজনি ধর্মাত্মা' চরিত্রে তাঁর অনন্য অভিনয় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়। এ ছাড়া এস এস রাজামৌলি পরিচালিত তেলেগু সিনেমা ‘সাই’-এ বিকশু যাদব চরিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রধান মাইলফলক হয়ে থাকে।
হিন্দি, তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম, ভোজপুরি ও মারাঠি সহ বহু ভাষায় অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্রেও ছিল তাঁর বিচরণ। সম্প্রতি অনন্ত জলিল পরিচালিত ‘নেত্রী-দ্য লিডার’ নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি, যার শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন এই গুণী শিল্পী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ‘ওয়ালটেয়ার বীরাইয়া’, ‘গুলু গুলু’ ও ‘ছাভা’-র মতো চলচ্চিত্রে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া