× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘পার্সেপোলিস’ খ্যাত ইরানি লেখক মারজানে সাতরাপি মারা গেছেন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২০:৪২ পিএম । আপডেটঃ ০৪ জুন ২০২৬, ২১:০১ পিএম

প্রখ্যাত ফরাসি-ইরানি লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মারজানে সাতরাপি। ফাইল ছবি: এএফপি

বিশ্বখ্যাত অস্কার মনোনীত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘পার্সেপোলিস’-এর রূপকার, প্রখ্যাত ফরাসি-ইরানি গ্রাফিক নভেলিস্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মারজানে সাতরাপি মারা গেছেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গত বছরের এপ্রিলে গভীর জীবনসঙ্গী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক স্বামী ম্যাথিয়াস রিপার মৃত্যুর পর থেকেই তীব্র মানসিক বিষাদে ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। মূলত সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরেই এক বছরের মাথায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন তিনি। কেবল একজন সৃজনশীল চলচ্চিত্রকারই নন, সাতরাপি ছিলেন বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক ও আপসহীন কণ্ঠস্বর।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) ৫৬ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

১৯৬৯ সালে তেহরানে জন্মগ্রহণ করা সাতরাপির জীবন ও শিল্পীসত্তা আমূল বদলে যায় ১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর। মাত্র ১০ বছর বয়সে নারীর পোশাক, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের ওপর রাষ্ট্রীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যক্ষ করেন তিনি, যা পরবর্তীতে তাঁর সৃষ্টির মূল জ্বালানি হয়ে ওঠে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমি এমন একটি দেশ থেকে এসেছি, যেখানে আইনিভাবে একজন নারীর মূল্য একজন পুরুষের অর্ধেক বলে ধরা হয়। কিন্তু আমি নিজে কখনো বিশ্বাস করিনি যে আমি কারও চেয়ে কম কিছু।"

কৈশোরে অস্ট্রিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে নব্বইয়ের দশকে পুনরায় ইরানে ফিরলেও মুক্তচিন্তার প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ১৯৯৪ সালে তিনি ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে চলে যান। প্যারিসের সেই অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম, পরিচয় সংকট ও শৈশবের ইরানি বিপ্লবের স্মৃতি নিয়েই তিনি রচনা করেন বিশ্বখ্যাত আত্মজৈবনিক গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’। ২০০৭ সালে বইটির সাদা-কালো অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র রূপ কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কার জয়সহ অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিহাস সৃষ্টি করে।

নারীর স্বাধীনতার প্রশ্নে আজীবন সোচ্চার সাতরাপি পরবর্তীতে ‘চিকেন উইথ প্লামস’ (২০১১) এবং বিজ্ঞানী মেরি কুরির জীবনীভিত্তিক ‘রেডিও-অ্যাকটিভ’ (২০১৯) এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০১৯ সালে হলিউডে নারী পরিচালকদের বৈষম্যমূলক অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, "হাজার বছরের পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি পাঁচ বছরে বদলায় না। পরিবর্তন অবশ্যই আসবে, তবে তার জন্য সময় লাগবে।"

চলচ্চিত্রের সমান্তরালে একজন সক্রিয় মানবাধিকারকর্মী হিসেবে ইরানের নারী নিপীড়ন ও রাজনৈতিক বন্দীদের পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এই নির্মাতা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের নীতিতে এতটাই অটল ছিলেন যে, ফ্রান্সের ইরান-নীতির তীব্র সমালোচনা করে ২০২৫ সালে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘লিজিওন দ’অনর’ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

মারজানে সাতরাপির এই আকস্মিক প্রয়াণ বিশ্ব চলচ্চিত্র ও বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী দিনেও শোষণের বিরুদ্ধে এবং নারীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।


ভ্যারাইটি অবলম্বনে


মারজানে সাতরাপি। এএফপি ফাইল ছবি




National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.