লিভার সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদের কন্যা কারিনার এই অকালপ্রয়াণে দেশের বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন কারিনা। হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি চিরবিদায় নেন।
কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘ডানা ভাই’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কারিনা আমাদের এভাবে ছেড়ে চলে যাবে তা ভাবতেও পারছি না। ও কেবল একজন অসাধারণ প্রতিভাবান শিল্পীই ছিল না, ছিল এক চমৎকার মনের মানুষ।”
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের স্বতন্ত্র কনটেন্ট দিয়ে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার হিসেবেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির বহুল আলোচিত সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ অন্যতম।
শুরুতে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও রোগটি যে এত দ্রুত তাঁকে কেড়ে নেবে, তা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাঁর এই অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন।
কারিনার মরদেহ চেন্নাই থেকে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ঢাকায় তাঁর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। তাঁর এই চলে যাওয়া বাংলাদেশের নতুন ধারার বিনোদন মাধ্যমে এক অপূরণীয় ক্ষতি সৃষ্টি করল।