কিংবদন্তি নাট্যজন আতাউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দশ দিন ধরে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর এই বরেণ্য নক্ষত্রের পতনে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১ মে বাসায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আইসিইউ ও পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। মাঝে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আবারও কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের আওতায় আনা হয়েছিল। অবশেষে সোমবার রাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরহুমের কন্যা শর্মিষ্ঠা রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর পিতার প্রয়াণের সংবাদ নিশ্চিত করে বলেন, "সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বনানী কবরস্থানে দাদি তথা তাঁর মায়ের কবরেই বাবাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বাদ জোহর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।"
আতাউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক। ১৯৪১ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর নির্দেশনার যাত্রা ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’ ও ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’-এর মতো ধ্রুপদী সৃষ্টিতে পূর্ণতা পায়।
মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও তিনি তাঁর অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, বরং ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বিশ্ব শাখার সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে আসীন হয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর নির্দেশিত দুই হাজারেরও বেশি নাট্য প্রদর্শনী এ দেশের নাট্য ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনরা তাঁর প্রয়াণকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শহীদ মিনার ও শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে এখন শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী শোকাহত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
