× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আশা ভোসলের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩০ এএম । আপডেটঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩০ এএম

মঞ্চের আলোয় চিরকাল হাস্যোজ্জ্বল থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোসলেকে পার করতে হয়েছে নির্যাতনের কণ্টকাকীর্ণ পথ। ছবি: সংগৃহীত

মাইক্রোফোনের সামনে যাঁর কণ্ঠ ছিল প্রাণোচ্ছলতার প্রতীক, সেই সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোসলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল বিষাদ আর সংগ্রামের এক নিভৃত আখ্যান। তাঁর প্রয়াণের পর এখন সামনে আসছে সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা, যা তিনি দীর্ঘকাল আড়ালে রেখেছিলেন। প্রখ্যাত লেখক রমা শর্মা রচিত ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজিক’ জীবনীগ্রন্থে ফুটে উঠেছে এক কিংবদন্তির জীবনের এমন কিছু অধ্যায়, যা কেবল যন্ত্রণাদায়কই নয়, বরং শিউরে ওঠার মতো।

আশা ভোসলের সংগীতজীবনের শুরুর দিকটা ছিল বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়ায় ঢাকা, আর ব্যক্তিগত জীবন ছিল স্বামী গণপতরাও ভোসলের নিষ্ঠুরতার শিকলবন্দি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০ বছরের বড় গণপতরাওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রেম দ্রুতই দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। রমা শর্মার বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপতরাও ছিলেন মদ্যপ এবং প্রচণ্ড উগ্র মেজাজের। এমনকি গর্ভাবস্থাতেও আশার ওপর চলত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন, যার ফলে তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

নিজের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে আশা লিখেছেন, “আমার স্বামীর মেজাজ ছিল অত্যন্ত খিটখিটে। হয়তো তিনি অন্যকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পেতেন। কিন্তু বাইরে থেকে কেউ তা বুঝতে পারত না। আমি সব সময় তাঁকে সম্মান দিতাম, তাঁর কোনো কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি।”

আশার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্তটি এসেছিল যখন তিনি তাঁর তৃতীয় সন্তানের জননী হতে চলেছেন। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন এই শিল্পী। সেই ভয়াবহ সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি ‘নরকে’ বাস করছেন।

অসহ্য মানসিক যন্ত্রণায় একবার তিনি একসঙ্গে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন। তবে ভাগ্যের লিখন ছিল ভিন্ন। গর্ভের সন্তানের প্রতি টান এবং জীবনের অদম্য স্পৃহা তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে। আশা বলেছিলেন, “গর্ভের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে আমি মারা যাইনি।”

অবশেষে সেই বিষাক্ত দাম্পত্য ছিন্ন করে তিন সন্তানকে নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে আসেন আশা। বিচ্ছেদের সেই কঠিন সময় তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে। পরবর্তীতে প্রখ্যাত সুরকার আর ডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বিয়ে কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেই স্থিতি আনেনি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের ধারাকেও বদলে দিয়েছিল।

আশা ভোসলের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আলোর নিচে প্রায়শই দীর্ঘ ছায়া থাকে। যে শিল্পী কয়েক দশক ধরে কোটি মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, তাঁর নিজের জীবনের ভিত্তি ছিল সীমাহীন সহনশীলতা ও সংগ্রামের ওপর নির্মিত। আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে এই করুণ আখ্যানগুলো কেবল ইতিহাস নয়, বরং একজন নারীর অজেয় ইচ্ছাশক্তির দলিল হিসেবে বেঁচে থাকবে। শত যন্ত্রণার মাঝেও তিনি যেভাবে সুরের সাধনা করে গেছেন, তা তাঁকে কেবল একজন শিল্পী হিসেবে নয়, একজন ‘সারভাইভার’ হিসেবেও অমর করে রাখবে।

বিষয় : আশা ভোসলে

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.