× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মারা গেছেন সংগীত কিংবদন্তি আশা ভোসলে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৬ পিএম । আপডেটঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৭ পিএম

চিরবিদায় নিলেন সুরের সম্রাজ্ঞী আশা ভোসলে। তাঁর কণ্ঠের বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তা ভারতীয় সংগীতকে দিয়ে গেছে অনন্য পূর্ণতা। ছবি: ফেসবুক

ভারতীয় সংগীতের আকাশ থেকে খসে পড়লো এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের কণ্ঠের জাদুতে কোটি হৃদয়ে হিল্লোল তোলা প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।

কিছুদিন ধরে মৃদু বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা থাকলেও তা গুরুতর ছিল না। তবে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রাথমিকভাবে হৃদ্‌রোগের কথা শোনা গেলেও, তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে পরে জানান যে, ‘চরম ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণ’-এর কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী। তাঁর ছেলে আনন্দ ভোসলে মুম্বাইয়ে মায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর রক্তে ছিল সুরের ধারা। প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও থিয়েটার ব্যক্তিত্ব দিননাথ মঙ্গেশকরের দ্বিতীয় কন্যা আশা, বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের ছায়াতলে থেকেও নিজের এক অনন্য ও স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁর সেই যাত্রা থামল ১২ হাজারেরও বেশি গানের মাইলফলক স্পর্শ করে।

আশা ভোসলে ছিলেন সংগীতের এক ‘ভার্সাটাইল মায়েস্ট্রো’। যখন সমসাময়িক শিল্পীরা নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে ছিলেন, তখন আশা ক্যাবারে, গজল, পপ থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিকাল—সবখানেই ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ও পি নাইয়ার থেকে আর ডি বর্মন কিংবা নব্বইয়ের দশকে এ আর রহমান—প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গেই তিনি নিজেকে ভেঙেছেন এবং গড়েছেন।

  • কালজয়ী সৃষ্টি: ‘পিয়া তু আব তো আজা’র সেই চিরচেনা মাদকতা, ‘দম মারো দম’-এর বিদ্রোহ কিংবা ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’র স্নিগ্ধ রোমান্টিকতা—প্রতিটি গানেই তিনি মিশিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর কণ্ঠের অনন্য টেক্সচার।

আশা ভোসলের জীবন কেবল সাফল্যের গল্প নয়, বরং এক হার না মানা সংগ্রামের আখ্যান। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারকে অমান্য করে গণপত রাও ভোসলেকে বিয়ে করেছিলেন। সেই দাম্পত্য জীবনে অবহেলা ও নিগ্রহ সয়েও তিনি দমে যাননি। সন্তানদের নিয়ে ফিরে এসে নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন। পরবর্তীতে সুরকার আর ডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত যুগলবন্দি ভারতীয় চলচ্চিত্রে সুরের এক নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেছিল।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘সর্বাধিক গান রেকর্ডকারী’র তকমা ছাড়াও তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’। আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্র্যামি মনোনয়নসহ অসংখ্য স্বীকৃতি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আশা ভোসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিবর্তনের নাম। কালের স্রোতে সুরের ধারা বারবার বদলেছে, কিন্তু আশার কণ্ঠ রয়ে গেছে অম্লান। আজ তাঁর পার্থিব কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেলেও, মুম্বাইয়ের অলিগলি থেকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে তাঁর গাওয়া কয়েক হাজার গান তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর সুরের রেশ রয়ে গেল কোটি ভক্তের স্মৃতি আর অনুভবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.