মঞ্চ, ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শক্তিমান অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এই অভিনেতা হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মী অভিনেতা শাহাদৎ হোসেন তাঁকে গ্রিন রোড এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, মূলত ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এ আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিনেতা সুজাত শিমুল হাসপাতাল থেকে তাঁর প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর আকস্মিক প্রস্থানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শামস সুমন ছিলেন এ দেশের অভিনয় জগতের এক নিভৃতচারী কারিগর। মঞ্চ থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি জয় করেছিলেন ছোট পর্দার দর্শকদের মন। চলচ্চিত্রেও তাঁর পদচারণা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘আয়না কাহিনি’ এবং ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক দক্ষতাতেও ছিলেন অনন্য। তিনি বেসরকারি রেডিও স্টেশন ‘রেডিও ভূমি’র স্টেশন প্রধান এবং ‘চ্যানেল আই’-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলের দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর জন্মস্থান রাজশাহীতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে সন্ধ্যা নাগাদ তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেতার বিদায়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।