কুমার শানুর পর এবার প্রাক্তন স্ত্রীর নিশানায় বলিউডের প্রখ্যাত গায়ক উদিত নারায়ণ। তাঁর প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা নারায়ণ সম্প্রতি দাবি করেছেন, চিকিৎসার নামে ষড়যন্ত্র করে তাঁর অজ্ঞাতে জরায়ু অপসারণ করানো হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হলেও গায়ক এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনুরাগীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শানুর মতো উদিতও কি মানহানির মামলার পথে হাঁটবেন?
রঞ্জনা নারায়ণের দাবি অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর হিন্দু রীতিতে উদিতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে ১৯৮৫ সালে রঞ্জনাকে বিহারে রেখে মুম্বাই পাড়ি জমান উদিত এবং পরে তাঁকে না জানিয়েই দীপা নারায়ণকে বিয়ে করেন। ২০০৬ সালে রঞ্জনা যখন প্রথম জনসমক্ষে স্ত্রীর অধিকার দাবি করেন, তখন উদিত তা অস্বীকার করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং উদিত দুই স্ত্রীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ জরায়ু অপসারণের মতো অমানবিক অভিযোগ সামনে আসায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন গায়কের ভক্তরা।
সম্প্রতি কুমার শানুর প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যও গায়কের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় শানু আদালতের দ্বারস্থ হন এবং ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলায় জয়ী হন। উদিতের অনুরাগীদের ধারণা, নিজের সম্মান রক্ষার্থে তিনিও সম্ভবত প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন উদিত বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। কয়েক দিন আগেই গায়ক-পুত্র আদিত্য নারায়ণ বাবা-মায়ের (উদিত ও দীপা) সঙ্গে একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এমন গুরুতর অভিযোগে গায়কের ব্যক্তিগত জীবনের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত বছর মঞ্চে এক নারী ভক্তকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন উদিত, এবার প্রাক্তন স্ত্রীর অভিযোগে ফের খবরের শিরোনামে এলেন তিনি।