× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

শিক্ষকদের ‘শাটডাউনে’ অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১২ মে ২০২৬, ২১:০২ পিএম । আপডেটঃ ১২ মে ২০২৬, ২১:০৩ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। মঙ্গলবার, ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার জেরে ডাকা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। পদোন্নতির দাবিতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া শিক্ষকদের এই সর্বাত্মক ধর্মঘটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ সেশনজটের মুখে পড়েছে।

রোববারের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। আন্দোলনরত ‘শিক্ষক সমাজ’ উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই আন্দোলনের সংহতি জানিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও এক সিন্ডিকেট সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী আমাদের ন্যায্য পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা একযোগে পদত্যাগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাস জনশূন্য। শিক্ষকদের অনড় অবস্থানের কারণে অনেক বিভাগের চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তাদের চার বছরের কোর্স শেষ করতে ছয় বছর লেগে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল ঢালী পরীক্ষা মাঝপথে স্থগিত হয়ে আছে। শিক্ষকরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী করতে যাচ্ছেন আমরা জানি না। সামনে আবার এক মাসের ছুটি রয়েছে, সব মিলিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ছি।”

শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য সময়ক্ষেপণ করছেন এবং তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তবে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। শিক্ষকরা এখনই পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু ইউজিসি যদি বেতন-ভাতা অনুমোদন না দেয়, তবে সেই দায়ভার কে নেবে?”

উপাচার্য ও শিক্ষকদের এই দ্বন্দ্বে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.