বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ভবন | ছবি: ইউজিসি ওয়েবসাইট
দেশের উচ্চশিক্ষার তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে দীর্ঘ পাঁচ দশকের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিলুপ্ত করে গঠিত হতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন’। প্রস্তাবিত নতুন এই কমিশনকে কেবল সুপারিশকারী সংস্থা নয়, বরং স্বায়ত্তশাসিত ও কার্যকরী ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করে জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করেছে।
খসড়া অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা কমিশনের কাঠামো ও সদস্যদের পদমর্যাদায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কমিশনের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা হবে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান। এছাড়া কমিশনারদের মর্যাদা হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির সমপর্যায়ের। বর্তমানে ইউজিসিতে একজন চেয়ারম্যান ও পাঁচজন স্থায়ী সদস্য থাকলেও নতুন কমিশনে একজন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি আটজন কমিশনার ও ১০ জন খণ্ডকালীন সদস্য থাকবেন।
উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণে এই কমিশন প্রতি তিন বছর পরপর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং প্রকাশ করবে। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশেষ তদারকির আওতায় আনা হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রেডিট স্থানান্তর এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচিতেও কমিশন সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
১৯৭২ সালে মাত্র ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউজিসি বর্তমানে ১৭২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের (৫৬টি সরকারি ও ১১৬টি বেসরকারি) অভিভাবক। ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীর এই বিশাল খাত সামলাতে ইউজিসিকে দীর্ঘকাল ‘নখদন্তহীন বাঘ’ হিসেবে সমালোচনা করা হতো। নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে কমিশন:
চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে গঠিত হবে উচ্চ পর্যায়ের ‘সার্চ কমিটি’। চেয়ারম্যান পদের জন্য শিক্ষাবিদদের কমপক্ষে ২৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে অধ্যাপক হিসেবে থাকতে হবে ১৫ বছর। এছাড়া দেশি-বিদেশি নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, "ইউজিসির বর্তমান জনবল ও স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন কমিশন গঠন করে যোগ্য লোকবল ও কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হলে তা উচ্চশিক্ষার জন্য ইতিবাচক হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।"
আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনা শেষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
