শহীদ মিনারে লাঠিসোঁটা হাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা| ছবি—সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগ যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি শুরু করেছে, তাতে দুই পক্ষকেই লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রলীগ সমাবেশ ডাকলেও তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন বিকাল ৪টায়। প্রায় কাছাকাছি সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শুরু করেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। তাদের কর্মসূচিও ছিল রাজু ভাস্কর্যে, সেখানে জায়গা না পেয়ে তারা শহীদ মিনারে যান।
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই হেলমেট মাথায় এসেছেন। অনেকের হাতে হকিস্টিক, জিআই পাইপ, রড, স্টাম্প, লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।
আর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম মাইকিং করে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বিকাল সাড়ে ৩টায় টিএসসিতে পরিদর্শনে এসে সহকারী প্রক্টর ড. মো. আব্দুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল আমাদের প্রভোস্ট কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ক্যাম্পাসে যাতে বহিরাগতরা না আসে। সেই বিষয়টি সবাইকে আমরা সবাইকে অবহিত করছি। সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে।”
২০১৮ সালে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র হাই কোর্ট অবৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহ ধরে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সরকারপ্রধান বলেন, “কোটা আন্দোলন করার আগে তো তাদের রেজাল্টগুলো দেখা উচিত ছিল যে- কোথায় তারা দাঁড়িয়েছে! দ্বিতীয়টি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি পুতিরা (চাকরি) পাবে?
ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য নিয়ে রোববার রাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গভীর রাতে বিক্ষোভে নামেন। সেখানে স্লোগান দেওয়া হয়, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছ, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’।
এরপর সোমবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং পরে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় ছাত্রলীগ। পিটুনিতে আহত হয়ে প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, তাদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়।
সন্ধ্যার কিছু আগে পুলিশ এসে হলগুলোতে অবস্থান নিলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ফিরতে থাকেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও ক্যাম্পাসের মধ্যে দল বেঁধে অবস্থান নেন। রাতে বিভিন্ন হলে তাদের তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
