বুধবার সন্ধ্যার দিকে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তের মানুষ যখন ইফতার নিয়ে ব্যস্ত, ওপারে তখন মর্টার শেলের বিস্ফোরণ। ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছিল লোকজনের ঘরবাড়ি। বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত সেন্ট মার্টিনে দ্বীপেও ভূকম্পন দেখা দেয়।
সংঘাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষ কিছুটা আতঙ্কে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে ততটা চিন্তিত নন জানিয়েছেন সেন্ট মার্টিন ইউপির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দ্বীপের চারপাশে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গ্রামের ব্যবসা–বাণিজ্য, আয়রোজগার সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে হ্নীলার রাখাইনপল্লির কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দিনের চেয়ে রাতের মর্টার শেলের বিস্ফোরণ তাঁদের আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে।
হোয়াইক্যং ইউপির চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ঈদের দিনেও টেকনাফের লোকজনকে ওপারের বিস্ফোরণ আতঙ্কে থাকতে হবে। ওপারের যুদ্ধ কখন থামে, কেউ জানে না।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে টানা দুই মাস ধরে চলছে মর্টার শেল ও গ্রেনেড-বোমার বিস্ফোরণ। মাঝেমধ্যে ওপারের মর্টার শেল ও গুলি এপারে এসে পড়ছে। মর্টার শেল পড়ার আশঙ্কায় দুই মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৫টি ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের অন্তত ২৩ হাজার মানুষ নাফ নদীর তীরের জমিতে চাষাবাদ, মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণ করতে পারছেন না। সাত হাজারের বেশি জেলে মাছ ধরতে নাফ নদীতে নামতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ওপারের চলমান সংঘাতে জীবিকা হারানো মানুষগুলো চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। রমজান মাস তাঁরা কাটিয়েছেন অতিকষ্টে। পবিত্র ঈদুল ফিতরেও সীমান্তের জনপদের মানুষগুলোকে চরম আতঙ্কে রাত কাটাতে হচ্ছে। ঈদের আনন্দ যেন বিলীন হচ্ছে ওপারের বিকট শব্দের বিস্ফোরণে।
টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আরাকান আর্মি চাইছে মংডু টাউনশিপের দক্ষিণে চারমাইল স্থানটি দখলে নিতে। সেখানে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাক রয়েছে। এলাকাটি দখলে নিয়ে পারলে রাজধানী সিথুয়ের (আকিয়াব) সঙ্গে মংডুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
রাখাইন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।