অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং এলাকায় ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে গভীর রাতে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ২৬ জন নারী ও ৫৯ জন পুরুষসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপন সংস্থা ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা আটক হলেও তাদের উপস্থিতির নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে ঘনীভূত হয়েছে গভীর রহস্য।
ডিবি উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটি কোনো ধরনের বার বা বাণিজ্যিক রিসোর্টের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'এয়ারবিএনবি'-র মাধ্যমে ভাড়া দিয়ে সেখানে মাদক ও ডিজে পার্টির আসর চালানো হচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাড়ে ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত তিনতলা ওই বাড়িতে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২টি অবৈধ পার্টির আয়োজন করা হতো। প্রতিটি অনুষ্ঠানে মাথাপিছু প্রবেশ ফি এবং কক্ষ ভাড়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হতো, যার ৭০ শতাংশ জমা হতো পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জহিরের পকেটে।
অভিযানের পরদিন মঙ্গলবার আটককৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত নারী ও পুরুষ উভয়কেই বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়েছেন। মোবাইল কোর্টের রায়ে পুরুষ আসামিদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড) দেওয়া হয়। অন্যদিকে নারী আসামিদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তবে ডিবির এই সাঁড়াশি অভিযানে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের সেখানে জড়ো হওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে ও তদন্ত মহলে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দেখা গেছে, তাদের মধ্যে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল, ফিলিপ মরিস, এসিআই মোটরস এবং শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন সংস্থা এশিয়াটিকের মতো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, জন্মদিনের পার্টির আড়ালে এই জমায়েতের নেপথ্য অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতার যোগসূত্র থাকতে পারে।
সম্প্রতি পল্লবী ও বনানী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ নারায়ণ পাল এবং লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরার সঙ্গে এই গোপন বৈঠকের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক গোয়েন্দা ইউনিট। ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের দুর্নীতির উৎস এবং এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্য কারিগরদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
