× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টাকা চুরির অপবাদে খুলনা মেসে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২২ পিএম । আপডেটঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৪ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মসজিদ গলির যে ভবনে শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে একটি মেসে ভাত ও টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরের ইসলামনগর এলাকার মসজিদ গলির এক চারতলা ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর রোববার মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, অন্যদিকে ভয়ে মেস ছেড়েছেন অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীরা এবং এলাকায় থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গল্লামারী হল রোডের বিপরীতের মসজিদ গলির হালকা গোলাপি রঙের চারতলা মেস ভবনটির অধিকাংশ কক্ষে তালা ঝুলছে। শিক্ষার্থীরা স্যান্ডেল-জামাকাপড় ফেলেই মেস ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না; সবাই "কিছু জানি না" বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়দের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে থমথমে ভাব বজায় রাখছেন সবাই।

নিহত আজমুল হোসেন বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, "শুক্রবার রাতে আজমুল ফোন করে জানায়, মেসে তার বিরুদ্ধে ভাত ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আমি দে তো বললে ওরা বলে, 'চাচা, আপনার ছেলে এমন করসে, আপনি এক লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন।' এরপর আমি খুলনায় এসে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশ খুঁজে পাই।"

ঘটনার রাতে ওই ছাত্রাবাসে গভীর রাত পর্যন্ত চিৎকার শোনা গেছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী। আনুমানিক রাত একটার পর রক্তাক্ত অবস্থায় আজমুলকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন তারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মেসের চারতলার রুম থেকে বেধড়ক মারধর করতে করতে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের হলেও আসামিরা এখনও অধরা। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, "নিহত আজমুলের বাবা বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।" তবে রোববার বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেস এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.