ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখমণ্ডলে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে বাসেই তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ ফেলে দেয়। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় পুলিশ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত 'রাজ ক্লাসিক' নামের বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইসমাইল হোসেন জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী ওই বাসে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর র্যাব-১ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে থেকে অভিযুক্তদের মূল চক্রকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), সুপারভাইজার সাজু (২৮) ও হেলপার মনির (১৮)। অভিযান পরিচালনা ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে র্যাব-১ জানায়, “ছায়াতদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকরের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রূপকার বাসচালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জমি বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যাত্রীবেশী ইসমাইলকে বাসের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে লাশ এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়।”
জব্দকৃত 'রাজ ক্লাসিক' বাসটি এবং গ্রেপ্তার আসামিদের ইতোমধ্যে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সার্বিক তদন্ত, অপরাধের পদ্ধতি ও আর্থিক লেনদেনের উদ্ধার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাতে আগামীকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।