বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সব সহযোগীকে নিয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরে এসে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জিয়া মঞ্চ’-এর বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘন ঘন দেশে ফেরার বার্তার জবাবে সাহস থাকলে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরার এই প্রকাশ্য আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-৩ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আপনি আসেন, আপনি কেন দেশের বাইরে থাকবেন? আপনি যত চোর নিয়ে বিদেশে গেছেন, সব চোর নিয়ে একবারে ঢাকায় আসেন। বাংলাদেশে আসেন। জনগণ আপনাদের দেখতে চায়। আমার আপা ঘন ঘন আওয়াজ দেন, তিনি আসবেন। সাহস থাকলে আসিয়া পড়েন, আসিয়া পড়েন।”
বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশের বর্তমান প্রশাসন, অর্থনীতি এবং দলীয় কৌশল নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর ও পেশাদারিত্বের চরম অভাব পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্নীতি কাটাতে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা ১৮ কোটি মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে বলে দাবি করে তিনি নেতা-কর্মীদের বাঁকা পথে অর্থ উপার্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চের তীব্র সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা হিসেবে বর্ণনা করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
রাজশাহী বিভাগীয় জিয়া মঞ্চের এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত এবং উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ্ ইকবাল। অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।