× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গাজীপুরে জুয়েলারি দোকান থেকে ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, সিন্দুক ভেঙে স্বর্ণালংকার লুট

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ এএম । আপডেটঃ ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০ এএম

গাজীপুর নগরের সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’-এর ভেতরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দোকানের সামনে ভিড় করেন কৌতূহলী ও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরের সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় নিজ জুয়েলারি দোকানের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে ভেতর এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার বিকেলে ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানটির ভেতর থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দোকানের প্রধান সিন্দুক খোলা ও লুট হওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নিহত আবুল কালাম আজাদ (৪২) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীর ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম আজাদ। সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খোলার কথা থাকলেও রোববার দুপুর পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা বন্ধ দেখে আশপাশের ব্যবসায়ীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে নিহতের ভাই কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের কাছে গিয়ে সাটার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে সাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে মেঝেতে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ঘটনার খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বলেন, “দোকানের মেঝেতে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। তাঁর পাশেই একটি সিন্দুক খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকে স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দোকানের শোকেসে সাজিয়ে রাখা ডামি স্বর্ণালংকারে দুর্বৃত্তরা হাত দেয়নি।”

হত্যাকাণ্ডের কৌশল সম্পর্কে ওসি আরও জানান, “ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করে আমাদের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ড ও লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ওই ব্যবসায়ীর পূর্বপরিচিত হতে পারে। চেনা হওয়ায় তাঁদের ডাকে তিনি রাতের বেলা দোকান খুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন। এ কারণে আশপাশের লোকজনও বিষয়টি টের পাননি। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে দোকানের শাটারে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।”

তাৎক্ষণিকভাবে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ, নিহতের পরিবারের সহায়তায় বিস্তারিত হিসাব করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম জোর অভিযান শুরু করেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.