চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে গোসল করার সময় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই পুকুরে বারবার প্রাণহানির ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্যাম্পাসের জলাশয়গুলোর প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শান্ত দেব এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল (সিএসই) বিভাগের অর্ণব দত্ত। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে হলসংলগ্ন পুকুরে নামার পর পানির গভীরতায় হঠাৎ দুজনই তলিয়ে যান। সহপাঠীরা তাৎক্ষণিক খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রনিক ও টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, “ডুবে যাওয়া দুজনের মধ্যে একজনকে ঘটনার ৮-১০ মিনিট পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে অপরজনকে উদ্ধারে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট সময় লেগে যায়। প্রথমে তাঁদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়; পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, "আমরা হাসপাতালে রয়েছি এবং ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে; স্বজনদের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার মৃত্যু হয়েছিল। পর পর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুকুরটির চারপাশে দ্রুত স্থায়ী নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ এবং পাড় প্রশস্ত করার তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।