রাজশাহীর পবা উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অতিবৃষ্টি ও খালে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পাদন করেই কাজ স্থগিত রাখা হলে নিয়ম অনুযায়ী বুধবার (১২ আগস্ট) এই অব্যয়িত অর্থ জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে স্থানীয় পারিলা ইউনিয়নের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বৈরাগীর খাল’ পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটিতে মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রায় এক কিলোমিটার খননের পর কাজ চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বৃষ্টির কারণে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টির প্রতিকূলতায় এ পর্যন্ত কাজের মাত্র ৩৫ শতাংশ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বিধি অনুযায়ী কেবল সম্পাদিত কাজের সমপরিমাণ অর্থই ছাড় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চেকে ট্রেজারিতে জমা করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার প্রচলিত অভিযোগের বিপরীতে পবা উপজেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অনন্য উদাহরণ তৈরি করল। বর্ষা মৌসুম শেষে খালের অবশিষ্ট অংশের পুনঃখনন কাজ পুনরায় শুরুর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।