হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত এক কর্মী। ১১ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর নিউমার্কেটে বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সংঘটিত এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার ও বেপরোয়া ভাঙচুরের জেরে এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা দোকান বসান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেই দোকান তুলে দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর কিছুক্ষণ পর চঞ্চলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান।
মারধরের ঘটনাটি দ্রুত ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী সংগঠিত হয়ে নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় দুই পক্ষ পুনরায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নিকটস্থ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যুবদলকে দায়ী করা হলেও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, "ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করে, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাদের মারধর করে। তারা আমার অফিসও ভাঙচুর করেছে এবং লুটপাট চালিয়েছে।"
অন্যদিকে সংঘর্ষের নির্দিষ্ট কারণ অজানা দাবি করলেও নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি। তিনি বলেন, "সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলামসহ আমাদের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।"
ঘটনার পরপরই নিউমার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে থমথমে থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন জানান, "ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
