সবুজবাগে বিএনপি কর্মী পলাশ হত্যায় গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণকারী চার আসামি (বাঁ থেকে) রয়েল, সবুজ, নাঈম ও আলী। ছবি: সবুজবাগ থানা সৌজন্যে
পূর্বশত্রুতা ও প্রতিশোধের জেরে রাজধানীর সবুজবাগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মী ইব্রাহীম পলাশকে (৩২) কুপিয়ে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাসহ চার আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং নিহতের হাত ও আঙুলের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ।
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মুখে মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মোস্তফা হোসেন রয়েল এবং তার অন্যতম সহযোগী মোঃ সবুজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ নাঈম ও মোঃ আলী নামে অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘটনার কিছুদিন আগে সবুজের ভাগ্নে স্থানীয় একটি রিকশা গ্যারেজে প্রস্রাব করলে গ্যারেজ ম্যানেজার তাকে মারধর করেন। এর জবাবে সবুজ গিয়ে গ্যারেজ ম্যানেজারকে প্রহার করেন। গ্যারেজ মালিক বিষয়টি নিয়ে ইব্রাহীম পলাশের কাছে বিচার চাইলে, পলাশ লোকজন নিয়ে সবুজকে ধাওয়া দেন। সবুজ আত্মরক্ষার্থে মূল হোতা রয়েলের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানে পলাশের সঙ্গে রয়েলের তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে পলাশ রয়েল ও তার বাবা-মায়ের ওপর হামলা চালান।
পুলিশ জানায়, মা-বাবার ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতেই চরম আক্রোশে ফেটে পড়ে রয়েল। সে তার সহযোগীদের নিয়ে পলাশের দুই হাত কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা সাজায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় সবুজবাগের বাগপাড়া পানির পাম্প সংলগ্ন চায়ের দোকানে অবস্থানরত পলাশের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হামলার শুরুতে ১ নম্বর আসামি রয়েল ধারালো ছ্যানা দিয়ে পলাশকে কোপ দিলে পলাশ ডান হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পলাশ জীবন বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করলে হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে। পলাশ মাটিতে পড়ে গেলে আসামিরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার দুই হাত শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং বিচ্ছিন্ন হাত দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই সবুজবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আসামিদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২৮ ও ২৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি ছ্যানা এবং নিহতের হাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলির বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ায় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, উদ্ধারকৃত আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
