মিরপুরে যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য দাবির পর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে
রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ (৪৫) হত্যাকাণ্ডের 'মূল রহস্য' উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ মূল শুটারসহ এ পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের চাঁদা এবং জমি দখলের বিরোধ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকা হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরে বাবুর কার্যালয়ের সামনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা অবস্থান নিলে স্থানীয়রা তাঁদের পরিচয় জানতে চান। তখন তল্লাশির চেষ্টার মুখে ভাড়াটে শুটার চঞ্চল পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ইউসুফের বুকে গুলি লাগে এবং তিনি মারা যান। এ সময় মনির হোসেন নামের অপর এক যুবদল কর্মী এবং সালাম সরদার নামের একজন সবজি বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা চঞ্চলকে অস্ত্রসহ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়, পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও সাতজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, "আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবেই দেখা হবে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব বাবুকে সরাতে ২৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল এবং অগ্রিম টাকাও দেওয়া হয়। তবে হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ইউসুফ নামের এক কর্মী প্রাণ হারান।"
ডিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সিএনজি হাফিজই ভাড়াটে শুটারদের ঢাকায় এনে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এর আগে গত ২৯ জুন প্রথমবার বাবুকে হত্যার চেষ্টা চালানো হলেও পিস্তলের মিসফায়ারের কারণে তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আধিপত্য ধরে রাখতেই এই দ্বিতীয়বারের মতো নৃশংস হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার ডিবির হাতে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সিএনজি হাফিজসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নাগরিক মনে সাময়িক স্বস্তি আনলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ায় উদ্বিগ্ন আমজনতা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
