নেত্রকোনা সদর উপজেলায় নিজ বসতঘরে গভীর রাতে এক কৃষককে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার কালিয়াড়া গাবরাগাতী ইউনিয়নের দুয়ানী দুধকুড়া পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ মাহফুল মিয়া (৩৫) নামের ওই কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নৈশভোজ শেষে মাহফুল মিয়া নিজ ঘরে একা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টা থেকে ভোর পৌনে পাঁচটার কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতর ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ভোরে নিহতের মা ঘুম থেকে উঠে ছেলের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকলে বিছানায় সন্তানের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
সংবাদ পেয়ে রোববার সকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার ও নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল খায়েরসহ পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংগৃহীত আলামত পর্যবেক্ষণ করেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার বলেন, "প্রতিবেশী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে নিহতের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেই শত্রুর জের ধরেই ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।"
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শফিকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।