আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ধানমন্ডির ‘সুধা সদনে’ মো. শাকিল (২০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ৫ নম্বর রোডের ঐতিহাসিক বাড়িটির একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির জেরে চরম হতাশায় ভুগে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত শাকিলের বাসা মোহাম্মদপুর এলাকায় হলেও তিনি রাজধানীর জিগাতলার শিবপুর টালি অফিস এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুজ্জামান বলেন, "আমরা স্থানীয় সূত্রে খবর পাই যে সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ উদ্ধার করি।"
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ হাসিনার এই বাসভবনটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তদারকিহীন বাড়িটিতে ভবঘুরেদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সুযোগ নিয়ে গত শুক্রবার রাতের কোনো একসময়ে শাকিল ওই ভবনে প্রবেশ করেন।
হত্যার পেছনে পারিবারিক দূরত্বের ইঙ্গিত দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, "রিকশাচালক এই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান এবং বাবা-মায়ের সঙ্গেও দীর্ঘদিন তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এসব একাধিক ব্যক্তিগত কারণে তিনি গভীর হতাশায় ভুগছিলেন। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, গভীর হতাশা থেকেই তিনি সুধা সদনের খালি ঘর পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।"
উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।