× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মেয়েকে রক্ষা করলেও প্রাণ গেল বাবার

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৫ জুলাই ২০২৬, ২২:১৩ পিএম । আপডেটঃ ২৫ জুলাই ২০২৬, ২৩:২৮ পিএম

পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তে বাছির উদ্দিন। হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া মেজ মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন এই বাবা। ছবি: সংগৃহীত

চোখের সামনে হাওরের উত্তাল পানিতে তলিয়ে যাওয়া আট বছরের মেয়েকে বাঁচাতে নিজেকে নিঃসংকোচে সঁপে দিয়েছিলেন বাবা। প্রাণপণ চেষ্টায় কন্যাকে নিরাপদে ডাঙ্গায় তুলে দিতে পারলেও পানির তীব্র স্রোতে নিজে আর ভেসে উঠতে পারেননি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওর সংলগ্ন এলাকায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই দিনে জেলার নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী ও ভৈরবে পানিতে ডুবে আরও চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

হাওরে প্রাণ হারানো ওই বাবার নাম মো. বাছির উদ্দিন। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পরিবারসহ বালিখলা হাওরের পাশে ঘুরতে বের হন বাছির উদ্দিন। মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর সেতু এলাকার একটি ডুবো সড়কে নৌকা থেকে গোসল করতে নামলে তাঁর মেজ মেয়ে শেমন্তী আক্তার হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। কোনো দ্বিধা না করে তৎক্ষণাৎ পানিতে ঝাঁপ দেন বাছির। জীবনের শেষ শক্তি দিয়ে মেয়েকে রাস্তায় অন্যের হাতে তুলে দিতে পারলেও হাওরের শক্তিশালী স্রোত তাঁকে গভীরে টেনে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, "কন্যার জীবন বাঁচাতে গিয়ে বাছির উদ্দিন পানিতে তলিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।"

নিহতের ছোট ভাই আবদুল মোমেন বলেন, "আমার ভাই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ ছিলেন। পরিবারই ছিল তাঁর সব। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেলেন।"

একই দিনে কিশোরগঞ্জের অন্যান্য উপজেলায় আরও চার শিশুর অকালমৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিকলীতে পুকুরে পড়ে পাঁচ বছরের শিশু হাকিম, মিঠামইনে হাওরের স্রোতে ভেসে গিয়ে গাজীপুর থেকে আসা ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্র আরিফ, কটিয়াদীতে বিলে পা পিছলে পড়ে ১১ বছরের নাঈম এবং ভৈরবে নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ থাকা ১২ বছরের শিশু শুভ ইসলামের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

একই দিনে পানিতে ডুবে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় হাওরাঞ্চলসহ পুরো জেলায় শোকের মাতম চলছে। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও সচেতন মহল বর্ষাকালে জলাশয় ও হাওরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিশু ও পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.