সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে বন বিভাগের কার্যালয়ের একদম সামনে ভেসে উঠেছে একটি বাঘের বিচরণ দৃশ্য। লোকালয় ও পর্যটনকেন্দ্রের কাছে সুন্দরবনের এ রাজকীয় বাসিন্দার এমন উপস্থিতি বাঘের সার্বিক সংখ্যা বৃদ্ধি ও নিরাপদ বিচরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সুন্দরবনের শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বন অফিসের সামনের ফাঁকা জায়গায় বাঘটিকে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
বনকর্মীদের ধারণ করা মুঠোফোনের ভিডিওতে দেখা যায়, শ্যালা নদীর কোল ঘেঁষে এসে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের অফিসে ঢোকার ফাঁকা উঠানে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চারপাশ নিরীক্ষণ করে বাঘটি। একপর্যায়ে সামান্য থেমে পেছনে নজর বুলিয়ে শান্ত পায়ে উত্তর দিকের গভীর জঙ্গলে মিলিয়ে যায় এটি।
এর আগে গত ১৩ জুলাই একই এলাকার দক্ষিণে ফাঁদে আটকে আহত হওয়ার পর সুস্থ করা একটি বাঘিনীকে অবমুক্ত করেছিল বন বিভাগ। তবে শুক্রবারের দেখা পাওয়া বাঘটি সেটিই কি না—তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস সরাসরি বলেন, "গায়ের ডোরাকাটা দাগ ও শারীরিক গঠন বিশ্লেষণে আমাদের মনে হচ্ছে এটি অবমুক্ত করা বাঘিনীটি নয়। বরং এটি অন্য একটি বাঘিনী। অবমুক্ত করা অংশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার থাকায় তাদের শিকার বা টিকে থাকায় কোনো সংকট নেই।"
বর্তমানে সুন্দরবনের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আট কিলোমিটারজুড়ে প্রায় ২০টি আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়েছে বন বিভাগ। এসব প্রযুক্তির সহায়তায় সম্প্রতি তিনটি সম্পূর্ণ নতুন বাঘের ছবি ছাড়াও চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বন্য শূকর ও মেছো বাঘের বিচরণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া শরকির খালসংলগ্ন লোকালয়ের অতি কাছের বনাঞ্চলেও মিলেছে বাঘের উপস্থিতি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণ আগের চেয়ে সার্বিকভাবে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাকিং ছাড়াও নিয়মিত টহলের সময় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের টাটকা পায়ের ছাপ আগের চেয়ে অনেক বেশি চোখে পড়ছে। এটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে বাঘের বংশবৃদ্ধি ও নিরাপদ আবাসের একটি শুভ লক্ষণ বলে মনে করছে বন বিভাগ।