দক্ষিণ চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
টানা এক সপ্তাহের রেকর্ড ভাঙা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা এবং পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মরণকালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ১৫ হাজার ২২৩টি বসতঘর এবং ৩৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ও নগর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে প্রায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬০টি সেতু ও কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। যার ফলে এখনো লাখো মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত ৭ জুলাই চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যার জেরে পাহাড়ি ঢল নেমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ ডুবে গিয়ে সারা দেশের সাথে যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা। বাঁশখালীর ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৪ হাজার ৫১৯টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং সাতকানিয়ার ৮৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ২ হাজার ৪৮০টি ঘরবাড়িসহ ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে এই দুই উপজেলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, "এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ এবং তাদের টেকসই পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে, যা মহানগরের ২ হাজার ২৪৬টি বসতঘর এবং ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হাটহাজারী উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হয়েছে। অন্যদিকে সন্দ্বীপ, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও ফটিকছড়ির বিশাল অংশ প্লাবিত হওয়ায় মৎস্য ঘের ও কৃষিখাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "যাদের জমি তলিয়ে গেছে, মাছের ঘের ভেসে গেছে কিংবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করবে। বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা বিবেচনা করে জুলাই মাসের ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে এনজিওগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।"
আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করলেও, উপগত পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার দ্রুত পুনর্বাসন প্যাকেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারে বিশেষ বরাদ্দ না দিলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
