সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের সিলগালা করা দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগ খুলে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার মসজিদ সংলগ্ন মাঠে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই অর্থ গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। মাজারের আয়-ব্যয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সিলগালা করা ডেগগুলো খোলেন এবং টাকা বস্তাবন্দি করে গণনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে কমিটির কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী টাকা গণনার কাজে অংশ নেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মাজার কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, "মাজারের দানের টাকার গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ। আমরা কমিটির সকল সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখানে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছি।"
এর আগে, মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা দূর করতে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথমবারের মতো দানের টাকা গণনার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করে পুরোনো তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। এই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২১ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হলেও। পরদিন ২২ জুন সিলগালা করা বাক্স খুলে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা উদ্ধার করে সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।
মাজারের এই বিপুল পরিমাণ দান ও সংগৃহীত অর্থের ব্যবস্থাপনাকে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের এই প্রকাশ্য অর্থ গণনা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শাহজালাল মাজারের অর্থ তছরুপের দীর্ঘদিনের অভিযোগের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সিলেটের সাধারণ মানুষ। কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে মাজারের পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থ ধর্মীয় ও সামাজিক জনকল্যাণমূলক কাজে সঠিকভাবে ব্যয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
