× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বেড়িবাঁধ ভেঙে ধসল সেতু, অন্ধকারে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বান্দরবান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ জুলাই ২০২৬, ২০:৩২ পিএম । আপডেটঃ ১১ জুলাই ২০২৬, ২১:০১ পিএম

বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে ধসে পড়েছে ব্রিজঘাট বেইলি সেতু। ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে সারা দেশের সঙ্গে এই পাহাড়ি জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত রাতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজঘাট বেইলি সেতুটি ধসে পড়ায় এই যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটে। একই সঙ্গে পাহাড় ধস, গাছ উপড়ে খুঁটি ভেঙে পড়া এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বিপর্যয় ঘটায় পুরো জেলা এখন বিদ্যুৎহীন ও মারাত্মক যোগাযোগ সংকটে নিমজ্জিত।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে জেলা শহরের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ অভ্যন্তরীণ সব উপজেলার দূরপাল্লার ও স্থানীয় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক ছাড়াও বাঙ্গাল হালিয়া-চন্দ্রঘোনা এবং রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রয়েছে। বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকা প্লাবিত থাকায় ধসে যাওয়া সেতু মেরামতের কাজও শুরু করা যাচ্ছে না।

বান্দরবান সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজঘাট সেতু ধসে গেছে। এতে সকাল থেকে এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক তলিয়ে থাকায় আমরা দুর্ঘটনাস্থলে রওনা করতে পারছি না।"

বালাঘাটার সেনা ব্রিগেড এলাকা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ লাইন্স ও বেতার এলাকা এখন থই থই পানিতে ভাসছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। কসাই পাড়া এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ায় পুরো শহর বিদ্যুৎহীন। প্রত্যন্ত রুমা, রোয়াংছড়ি ও আলীকদমে বন্যা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হওয়ায় এবং ফোন নেটওয়ার্ক না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য মিলছে না। রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা জানান, "ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাধ্য হয়ে নৌকায় সশরীরে গিয়ে গিয়ে প্লাবিত পাড়াগুলোর খবর নিতে হচ্ছে।"

দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং ব্র্যাক ও বিএনকেএস-এর মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। আলীকদমের ইউএনও মনজুর আলম জানিয়েছেন, চার ইউনিয়নে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়া ১ হাজার ৩৩০টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, "সকালে যেটুকু পানি ছিল তা আরও বাড়ছে। শহরের পৌর এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা ৩ হাজার ৩০০ জনকে দুপুরে খাবার দেওয়া হয়েছে এবং রাতে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষের খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।"

উপকূলীয় ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর অববাহিকা তলিয়ে থাকায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি সহজে নামছে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ দ্রুত সচল করা না গেলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.