× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কোমরসমান পানিতে ভাসছে বাঁশখালী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪১ পিএম । আপডেটঃ ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৫ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কোমরসমান পানি মাড়িয়ে এক বৃদ্ধকে কোলে করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নসহ উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটুপানিতে তলিয়ে রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে পানিবন্দী থাকার পর গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে প্লাবিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ গবাদিপশু ও যৎসামান্য আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। তবে দুর্গম উপদ্রুত এলাকাগুলোতে তীব্র খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বিপন্ন মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

সমুদ্র উপকূলবর্তী বাহারছড়া ইউনিয়নের আসহাব উদ্দিন সড়ক থেকে মোশাররফ আলী পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন শুধু ঘরছাড়ো মানুষের দীর্ঘ সারি। প্লাবিত ঘরে রান্না ও পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় সন্তান ও পরিবার নিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরবর্তী স্বজনদের বাড়ি কিংবা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন। ভয়াবহ এই বন্যায় গত শুক্রবার এই ইউনিয়নেই পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের দাফনের জন্য সামান্য শুকনো মাটি খুঁজে পেতেও চরম বেগ পেতে হয়েছে স্থানীয়দের।

উপকূলবর্তী বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, "আমাদের বাড়ির এক শিশু গতকাল পানিতে ডুবে মারা গেছে। চারদিকে থৈ থৈ পানি থাকায় তাকে কবর দেওয়ার জন্য শুকনো জায়গা খুঁজে পেতেও অনেক সমস্যা হয়েছে। পরে অনেক দূর কষ্ট করে নিয়ে কিছুটা উঁচু এলাকায় অবস্থিত একটি পুকুরের পাড়ে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।"

এদিকে পূর্ব ইলশা ও চাপাছড়ি মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া দুর্গত মানুষের অভিযোগ। তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে সুপেয় পানির। পানি কিনতে হলে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। নতুবা বৃষ্টির পানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জলমগ্নতার কারণে অনেক এলাকায় গতকাল জুমার নামাজ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিপন্ন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো এবং উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, "আমরা সব জায়গায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৪ টন চাল ও আড়াই হাজার পরিবারে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখন থেকে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ আরও বেগবান করতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তৎপরতা চালানো হবে।"

উপকূলীয় এই অববাহিকা থেকে বন্যার পানি নামার গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী ও সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.