ফরিদপুর শহরের টেপাখোলায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলায় অবস্থিত সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ‘সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)’-এ থাকা ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৬ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বুধবার অভিযুক্ত মো. ওয়াহিদ শেখ (৫৪) নামের এক দরজিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির দায়ে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী শহরের একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শিশু পরিবারে থেকেই সে পড়াশোনা করত। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি স্কুল থেকে ফেরার পথে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখ তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর একাধিকবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে মেয়েটির শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। গত ৬ জুলাই চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে শারীরিক পরীক্ষায় তার ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "মামলা দায়েরের পর গত বুধবার আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
দায়িত্বে অবহেলার দায়ে বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন—সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীকে বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সমাজসেবা বিভাগের অধীন ‘নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্রে’ বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের মতো একটি সুরক্ষিত সরকারি আবাসন কেন্দ্রে এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমানাপ্রাচীর থাকার পরও কীভাবে নিরাপত্তার এই বলয় ভেঙে বাইরের একজন ব্যক্তি ভেতরে প্রভাব বিস্তার করল। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
ঘটনাটি কেবল ব্যক্তির অপরাধ নয়। বরং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি শিশু পরিবারের মতো সংবেদনশীল স্থানে শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
