× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ জুলাই ২০২৬, ১৫:০০ পিএম । আপডেটঃ ১০ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৯ পিএম

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভেঙে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে বন্যার পানি।

টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদিপশু ও জরুরি মালামাল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে আকস্মিক এ ভাঙনের ফলে নোয়াবাদ, চরহামুয়া ও সুঘরসহ অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

নদীর পানির প্রবল স্রোতে ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ নিমজ্জিত হওয়ায় ওই রুটে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগকে আরও চরম আকার দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধটি আগে থেকেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাহাড়ি ঢলের প্রথম ধাক্কাতেই বাঁধটি ধসে পড়ে এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

কালীগঞ্জ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, "কয়েক বছর ধইরা নদী থেকে বালু তোলার কারণে বাঁধটা দুর্বল আছিল। আমরা বারবার কইছি। কিন্তু কেউ শুনে নাই। রাইতের অন্ধকারে হঠাৎ বাঁধ ভাইঙা পানি ঘরে ঢুকে। এখন সব ফালাইয়া পোলাপান নিয়া স্কুলে আশ্রয় নিছি।"

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্গতদের জন্য জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল হক জানান, "জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের কাছে এই মুহূর্তে ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ৩,৪৪০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত ও বরাদ্দ রয়েছে। দুর্গত মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, উজান থেকে ঢলের পানি আসা অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধটি সাময়িকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.