কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে পড়া হেফজখানার মাটির নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় টানা বর্ষণের জেরে একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় ওই হেফজখানার ভেতর ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রী অবস্থান করছিল। এর ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে চরম আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের ‘এ’ ব্লকে মেয়েদের একটি হেফজখানার (মাদ্রাসা) ওপর পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়লে অন্তত ৫ জন মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়।
টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধার তৎপরতার শুরুর দিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান প্রথমে আটজনের মৃত্যুর তথ্য জানালেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে পাঁচজন ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ঘটনার আকস্মিকতার কারণে ধসে পড়া মাদ্রাসার ভেতর থেকে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন। সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি।
আশ্রয়শিবিরের স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) দিল মোহাম্মদ বলেন, "ভূমিধসের সময় হেফজখানার ভেতরে ৩০ জনের বেশি ছাত্রী পড়াশোনা করছিল। আমরা খবর পেয়েই ছুটে আসি এবং ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা এখনও মাটি সরানোর কাজ চালাচ্ছেন। ভেতরে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারে।"
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে উদ্ধার অভিযান সচল রেখেছে।
ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, "আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচজন ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত হতে পেরেছি। উদ্ধারকাজ এখনও পুরোদমে চলছে। মাটির নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছে কি না তা নিখুঁতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।"
উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার রাতেও উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে প্রবল বর্ষণে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যসহ আটজন রোহিঙ্গার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই অঞ্চলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
