শ্রীপুরের কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় রহস্যময়ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া তৈরি পোশাক শ্রমিকদের হাসপাতালে দেখতে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানায় গত দুই দিনে অন্তত ১৪৭ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নতুন করে আরও ৭০ জন শ্রমিক বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি ভাব নিয়ে চিকিৎসাধীন হন, যার আগের দিন মঙ্গলবার একইভাবে ৭৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কারখানাজুড়ে এমন রহস্যময় গণ-অসুস্থতার জেরে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় জেলা সিভিল সার্জনের পরামর্শে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই একের পর এক অসুস্থ হতে শুরু করেন। তীব্র বুকব্যথা ও বমি বমি ভাব নিয়ে অনেকে কর্মস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের দ্রুত মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এর আগে গত ২৪ জুন এই কারখানার রাতের শিফটে কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার (৩৬) নামের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর পর শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের জেরে কারখানাটি কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি তা আবার চালু হয়েছিল।
কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিব বলেন, "আজ সকালেও আমাদের চোখের সামনে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুকব্যথা আর বমি শুরু হতেই সবাই খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। পরে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে স্যালাইন দেওয়ার পর অনেকে সুস্থ হয়।"
মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. মুসা জানান, দুই দিনে তাঁদের এখানে ১৪৭ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়ার পর অধিকাংশ শ্রমিকই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটি 'মাস সাইকোজেনিক ইলনেস' বা 'মাস হিস্টিরিয়া'। একের পর এক শ্রমিক মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আবার সাধারণ চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থও হয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং জরুরি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জেলা সিভিল সার্জনের পরামর্শে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।"
এদিকে কারখানার ভেতরে এই গণ-অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মনে অলৌকিক আতঙ্ক দানা বেঁধেছে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার বলেন, "অসুস্থতার বৈজ্ঞানিক কারণ আমাদের জানা নেই। তবে শ্রমিকদের একাংশের ধারণা কারখানায় কোনো অপশক্তির আসর হয়েছে, তাই তাদের দাবির মুখে ইমাম ডেকে এনে কারখানায় মিলাদ পড়ানো হয়েছে। তবে উৎপাদন সচল রয়েছে এবং অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয় কারখানা কর্তৃপক্ষ বহন করছে।"
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কারখানার ভেতরের পরিবেশ, বাতাস বা অন্য কোনো রাসায়নিকের প্রভাব রয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
