× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সাভারে এনসিপির কর্মসূচিতে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:১২ এএম । আপডেটঃ ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ এএম

সাভারের তারাপুর মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত নেতাকর্মীদের ছোটাছুটি এবং পরবর্তীতে সাভার মডেল থানার সামনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সমাবেশ মঞ্চে এক ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দলটির কর্মীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর মাঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দলটির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বর্তমানে সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টা ২৬ মিনিটে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাভারের তারাপুর মাঠের সমাবেশস্থলে পৌঁছান। নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্ধকারের মধ্যেই স্থানীয় দুই নেতার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। ঠিক তখনই মঞ্চের ঠিক সামনে দর্শক গ্যালারিতে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিস্ফোরণের পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান গণমাধ্যমকে জানান, "এনসিপির কর্মসূচিস্থল থেকে চারজনকে আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জরুরি অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) পাঠানো হয়েছে। শাহীন খন্দকার নামে একজনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।"

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এনসিপি কর্মী শাহীন খন্দকার বলেন, "আমি মঞ্চের ঠিক সামনে দর্শক গ্যালারিতে বসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয় এবং আমার বাম পায়ের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।"

আহত অপর ব্যক্তি মো. জসিম আলী জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন। প্রতিদিনের মতো মাঠে ঘুরতে এসে সমাবেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারের আঘাতে তাঁর আঙুল জখম হয়।

এই হামলার ঘটনাকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বানচালের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছে এনসিপি। ঘটনার পর পরই দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সাভারে একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই। প্রশাসনিক সহযোগিতাতেই এই কাপুরুষোচিত হামলা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ঘটনার দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। আমরা এর তীব্র জবাবদিহি চাই।"

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.