কক্সবাজারের উখিয়ায় ভারী বর্ষণে ধসে পড়া পাহাড়ের মাটির নিচে চাপা পড়া ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সোমবার গভীর রাতে লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বর্ষণে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন রোহিঙ্গার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর ক্যাম্পে ঘটা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর পাহাড়ের খাড়া ঢাল ও পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী আরও এক লাখের বেশি মানুষের জীবন এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস আগামী দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়ায় পুরো শরণার্থী শিবিরজুড়ে নতুন করে ধস ও প্রাণহানির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড ১০০ মিলিমিটারের বেশি টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটির স্তর নরম হয়ে যায়। গভীর রাতে হঠাৎ ওপর থেকে বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়লে ৭ নম্বর ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামের এক শিশু এবং ১৫ নম্বর ক্যাম্পে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট আটজন মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব রোহিঙ্গার বসতি উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় প্রতি বর্ষায় এই মৃত্যুফাঁদ তৈরি হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত ৯টি ক্যাম্পকে পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর থেকেই ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পগুলোতে অনবরত মাইকিং করা হচ্ছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে (শিক্ষা কেন্দ্র) অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকায় এক লাখেরও বেশি মানুষ এখনও ওই খাড়া পাহাড়ের পাদদেশেই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এসব বসতি টেকসই না হওয়ায় এবং নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে মাটির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়াকে এই নিয়মিত দুর্যোগের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, "ক্যাম্পের অধিকাংশ ঘরই পাহাড়ের পাদদেশে। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু আমাদের সবার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে; জীবন বাঁচানোর জন্য আমরা সবাই চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন-রাত পার করছি।"
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, "সোমবারের পাহাড়ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে লার্নিং সেন্টারগুলোতে সরে যেতে আমরা নিয়মিত মাইকিং করছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে আমাদের উদ্ধার তৎপরতা ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
