জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে আকস্মিক এক আদেশে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিলেটের ঐতিহাসিক দুটি মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের ৩ দিনের মাথায় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত এলো।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সিলেট থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এই বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে আকস্মিক এই প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ কিংবা সিলেটের পরবর্তী জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন। সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যোগাযোগ করা হলে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে তাঁর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে হঠাৎ এই বদলির পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রশাসনিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময় নানা কারণে আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। বিশেষ করে গত ১২ জুন সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।
এই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার দুটির ঐতিহ্যবাহী দানবাক্সগুলো সিলগালা করে নতুন বাক্স স্থাপন করা হয়। একই সাথে শত বছরের প্রাচীন রীতি ভেঙে মাজারে ভক্তদের অর্থ ও মানত রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের 'ডেগ' (বড় পাত্র) সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। যা স্থানীয় মাজার-ভক্ত ও খাদেম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এক মাজার-ভক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা, "প্রায় সাত শ বছর ধরে যে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির মধ্য দিয়ে মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সেই ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে। হিসাব ও স্বচ্ছতা যে কেউ চাইতেই পারেন, কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে আধ্যাত্মিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়।"
ঐতিহাসিক এই মাজারগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সিলেটের সর্বস্তরে গত কয়েকদিন ধরে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। একপক্ষ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আর্থিক স্বচ্ছতা আনার ইতিবাচক প্রয়াস বললেও, সিংহভাগ মানুষ একে ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মূলত এই উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রশমন করতেই সরকার দ্রুত এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের পর সারওয়ার আলমকে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর কোয়ারি থেকে পাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে তৎকালীন ব্যাপক প্রশাসনিক তোলপাড়ের মধ্যে তিনি সিলেটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
