ঢাকা মেট্রোরেলের শাহবাগ স্টেশনের হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে একটি বিড়াল চলে আসায় শনিবার দুপুরে টানা ২২ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। কারিগরি বা সিগন্যাল ত্রুটির বাইরে কোনো প্রাণীর উপস্থিতির কারণে দেশের প্রথম দ্রুতগতির এই গণপরিবহন নেটওয়ার্ক থমকে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। আকস্মিক এই অচলাবস্থায় স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং প্রচণ্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।
বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর রেললাইন থেকে বিড়ালটি অক্ষত উদ্ধার করা হলে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে পুনরায় স্বাভাবিক যোগাযোগ শুরু হয়।
শনিবার দুপুরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মেট্রোরেলের উত্তরা-মতিঝিল রুটের পুরো সময়সূচি সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা কিংবা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ট্রেন থামার নজির থাকলেও, একটি বিড়ালের কারণে মূল লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘটনাটি সাধারণ যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি স্টেশনে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। বিশেষ করে দুপুরের তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে দেখে অনেকেই স্টেশন ছেড়ে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার দিকে পা বাড়ান।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) একজন কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মূল লাইনের হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে বিড়ালটি চলে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে আমরা কিছুক্ষণ ট্রেন অপারেশন স্থগিত রাখতে বাধ্য হই। বিড়ালটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করার পর ১২টা ১২ মিনিটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।"
কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুতায়িত রেল ট্র্যাকে কোনো প্রাণীর উপস্থিতি শুধু সেই প্রাণীর জন্যই নয়, বরং উচ্চগতির ট্রেনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে বিড়ালটি কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক স্থাপত্যের এই স্টেশনের মূল ট্র্যাকে প্রবেশ করল, তা খতিয়ে দেখছে স্টেশন প্রশাসন। বর্তমানে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রতিটি স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে।