মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিব আলী (২০) নামের এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এই সীমান্তে গুলিবর্ষণের পর নিহত তরুণের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ার দত্তগ্রাম সীমান্তে মনু নদ দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দা মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে মুজিব আলীসহ ছয় থেকে সাতজন বাংলাদেশি মনু নদ পার হয়ে ১৮৫২ ও ১৮৫৩ নম্বর মূল সীমান্তখুঁটির (পিলার) মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই মুজিবের মৃত্যু হয় এবং তাঁর সহযোগীরা দ্রুত পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
সীমান্তে গুলির শব্দ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নুল ইসলাম জানান, নিহত মুজিব আলী সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, "বিএসএফ নিহত মুজিবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর তারা দ্রুত লাশ হস্তান্তর করবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।"
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিনের সীমান্ত হত্যা বন্ধের দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং লাশ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে আইনি কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।