জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইনের চেষ্টার পর দুই দেশের শূন্যরেখায় (জিরো পয়েন্ট) অবরুদ্ধ প্রবীণ ব্যক্তি এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবি সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশ ইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ব্যক্তি বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তরেখার (জিরো পয়েন্ট) শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি।
বুধবার ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের জেরে সকালে অনুষ্ঠিত ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক এবং ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে রামরামপুর সীমান্তে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার বা ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৈঠক শেষ করে চলে যায়।
বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত ওই বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিএসএফ একাধিকবার তাকে পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, বুধবার ভোর ৫টার দিকে ভারতের নন্দীরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে জোরপূর্বক রামরামপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
রামরামপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "গত কয়েকদিন ধরেই বিএসএফ এই সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার জন্য সুযোগ খুঁজছিল। আজ ভোরে তারা লোকটিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা টের পাই। আমরা এলাকাবাসী বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তে দাঁড়িয়েছি, কাউকেই অবৈধভাবে ঢুকতে দেব না।"
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, পতাকা বৈঠক সফল না হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরণের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তবে বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ সুবিধা করতে পারছে না।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমরা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে বিষয়টি সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিএসএফের নেতিবাচক অনড় অবস্থানের কারণে কোনো সুরাহা হয়নি। তারা ওই ব্যক্তিকে শূন্যরেখায় রেখেই চলে গেছে।"
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, "বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো বহিরাগত বা অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিএসএফের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও 'পুশ ইন' চিরতরে রুখে দিতে সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
