× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়া হয়েছে

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ জুন ২০২৬, ২০:০০ পিএম । আপডেটঃ ১০ জুন ২০২৬, ২০:০২ পিএম

বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে এলজিইডির তড়িঘড়ি করে বিছানো ইট তুলে নেওয়ার পর সংযোগ সড়কটি পুনরায় কাঁচা ও কর্দমাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে রাতারাতি নির্মিত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক থেকে সফর শেষ হতেই বিছানো ইট তুলে নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মূল স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শুরু না করে, কেবল ভিভিআইপি সফরের জন্য অস্থায়ীভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সোলিং করা এবং পরবর্তীতে তা তুলে নেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরকারের শীর্ষ নির্বাহী তাঁর পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের সুবিধার্থে তড়িঘড়ি করে নির্মিত এই অস্থায়ী সড়কটির ইট সপ্তাহখানেকের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে বর্ষার বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরে আসেন। তিনি স্থানীয় একটি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটারের একটি কাঁচা রাস্তায় রাতারাতি ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করে তোলে এলজিইডি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় সড়কের পুরো অংশের বিছানো ইট পুনরায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আগমনে কাঁচা সড়কে ইট বসায় আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হলো। কিন্তু তিনি চলে যেতেই সড়কের সব ইট তুলে নেওয়া হলো। এখন বৃষ্টিতে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি স্থায়ীভাবে কার্পেটিং (পাকাকরণ) করার জন্য গত অর্থবছরই এলজিইডি থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের আগস্ট মাসে ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়, যার মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত।

তবে কার্যাদেশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মূল কাজ শুরু করেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে এলজিইডিকে বিকল্প ও অস্থায়ী পথ বেছে নিতে হয়। এই অস্থায়ী সোলিংয়ের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানকে।

আতিকুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলজিইডি থেকে ওই কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট সোলিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভাটা থেকে ইট এনে শ্রমিক দিয়ে তা বিছিয়েছিলাম। সফর শেষে নির্দেশনা অনুযায়ী ইট তুলে আবার ভাটায় ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। এলজিইডি থেকে আমাদের শুধু পরিবহন ও শ্রমিক খরচ দেওয়া হয়েছে।”

স্থায়ী কাজ ফেলে রেখে অস্থায়ী প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান সম্পূর্ণ নিয়মনীতি মেনে কাজ করার দাবি করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “ওই সড়ক পাকা করতে ৮৪ লাখ টাকা আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে সেখানে অস্থায়ীভাবে বিছানো ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলা হয়েছে, কারণ সোলিংয়ের জন্য ইটগুলো ভাটা থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। নতুন ইট কিনতে গেলে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যেতো।”

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে প্রায়শই ভিভিআইপি সফরের নামে এমন অস্থায়ী এডহক ভিত্তিক ব্যয় করতে হয়, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বাড়ায়।

বর্তমানে কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও সড়কটির স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় এবং অস্থায়ী সোলিং তুলে নেওয়ায় পুরো বর্ষা মৌসুমে ওই অঞ্চলের হাজারো মানুষকে কর্দমাক্ত রাস্তায় চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.