পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তীব্র প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই পুশ ইনের চেষ্টার পর অনুপ্রবেশে ব্যর্থ ওই ১০ ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
কোনো পক্ষই নিজ দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সীমান্তের শূন্যরেখার ফসলি জমিতে ওই ১০ জনকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে থাকা এই দলটিতে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির বড়বাড়ি ক্যাম্প এবং বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, "বিএসএফের সঙ্গে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ওই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিএসএফ দাবি করেছে। তবে তাঁরা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য আমরা তাঁদের গ্রহণ করছি না। তা ছাড়া এভাবে ঠেলে পাঠানো তো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না।"
বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শূন্যরেখার দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে কড়া পাহারা দিচ্ছেন।
এই ঘটনার ফলে সীমান্তে দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং আটকে পড়া সাধারণ মানুষের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিজিবি জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।