× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, ঘাতক ছেলে পলাতক

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০২৬, ১৮:১৭ পিএম । আপডেটঃ ০৪ জুন ২০২৬, ১৮:৫০ পিএম

লাশ। প্রতীকী ছবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে নিজ শয়নকক্ষের মাটির মেঝেতে পুঁতে রাখার এক নৃশংস ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের বড় ছেলে ও ভ্যানচালক জুয়েল ইসলাম (৩৫) পলাতক রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে দুই দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে মারুফা বেগম (৬০) নামের ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত মারুফা বেগম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। জুয়েলের ছোট ভাই লাবিন ইসলাম ঢাকায় পোশাককর্মী হিসেবে কর্মরত। ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি এসে গত শুক্রবার তিনি শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। গতকাল বুধবার সেখান থেকে ফিরে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বড় ভাইয়ের ঘরের মেঝেতে ফাটল ও বিছানায় রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মাটি খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহটি উদ্ধার করে। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, লাশের মাথার সামনে বাঁ দিকে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বলেন, "শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে মাকে না দেখে বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে একেকবার একেক কথা বলতে থাকে। সন্দেহ হওয়ায় ওর শোয়ার ঘরে ঢুকে মেঝেতে নতুন মাটির প্রলেপ, ফাটল ও বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পাই। তখনই পুলিশকে জানাই। আমার নিজের ভাই যে এমন পৈশাচিক কাজ করতে পারে, তা ভাবতেও পারছি না।"

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, "আমরা ঘরের মেঝে খুঁড়ে ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের মাথায় শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে আজ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েল ইসলাম পলাতক থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় আনা হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে।"

পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং অপরাধের আলামত গোপন করতেই মরদেহটি ঘরের ভেতরেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগী রয়েছে কি-না, তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.